কাতার ফুটবল বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঐতিহ্যবাহী কালো আলখাল্লায়

0

কাতার ফুটবল বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঐতিহ্যবাহী কালো আলখাল্লা পরিয়ে দেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ঢিলাঢালা ওই আলখাল্লা স্থানীয়ভাবে ‘বিশত’ নামে পরিচিত।


মেসিকে কালো ও সোনালি রঙের ওই আলখাল্লা পরিয়ে দেয়ার পর পশ্চিমারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে বিশ্ববাসীর নজর করেছে এই পোশাক। দ্য ন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেসিকে পরিয়ে দেয়া ওই বিশত’র দাম ২ হাজার ২০০ ডলার। আল-সালেমের পারিবারিক কোম্পানি ওই বিশতটি তৈরি করেছে।

সাধারণত বিয়ে, গ্রাজুয়েশন এবং আনুষ্ঠানিক কোনো ইভেন্টে বিশত পরার প্রচলন রয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহা’র সৌক ওয়াকিফে পারিবারিক দোকানে বসে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখেছেন আল-সালেম। তবে খেলার আগেই মেসি ও ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিসের জন্য দুটি বিশত বিশ্বকাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন তিনি।


শেখ তামিম ওই বিশত মেসিকে পরিয়ে দেয়ার পর আল-সালেম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা জানতাম না এই বিশতগুলো কাদের জন্য ছিল। আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম (এই দৃশ্য দেখে)।

কাতারের রাজপরিবারকে দীর্ঘদিন ধরেই বিশত সরবরাহ করে আসছে আল-সালেম স্টোর। তারা প্রতিদিন সাধারণত ৮-১০টি বিশত বিক্রি করে। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের পরদিন ১৫০টি পর্যন্ত বিশত বিক্রি করেছেন আল-সালেম। এরমধ্যে মেসির পরিহিত বিশতের তিন পিচও রয়েছে বলে জানান আল-সালেম।


তিনি বলেন, একপর্যায়ে কয়েক ডজন মানুষ দোকানের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। তাদের প্রায় সবাই আর্জেন্টাইন। আল-সালেম ৮ জন আর্জেন্টাইনকে বিশত পরে ‘মুচাচোস’ গাইতে ও বিশ্বকাপের ডামি ট্রফি নিয়ে সেলফি তুলতে দেখেন।


মাওরিসিও গার্সিয়া নামের একজন সমর্থক বলেন, আমরা সবাই যখন এটা (বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসিকে বিশত পরিয়ে দেয়ার দৃশ্য) দেখলাম তখন খুব খুশি হয়েছি। এটা একজন বাদশাহ’র পক্ষ থেকে আরেকজন বাদশাহ’র জন্য উপহার।

যদিও মেসিকে বিশত পরিয়ে দেয়ায় কয়েকজন পশ্চিমা কমেন্টেটর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আরবি ভাষাভাষীর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এমন মুহূর্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সালেম এবং অন্যান্য আরবের ভাষায় মেসিকে ‘সম্মান’ দেয়াই ছিল এই বিশত পরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য। কিন্তু শেখ তামিমের এই আচরণকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আল-সালেম বলেন, যখন একজন শেখ কোনো ব্যক্তিকে একটি বিশত পরিয়ে দেন, তার মানে হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশের মানুষই এই বিশত পরিধান করেন। তবে কাতারের শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি হচ্ছে আল-সালেম। তাদের ৬০ জন টেইলার রয়েছে।


প্রতিটি বিশত তৈরি করতে এক সপ্তাহ লাগে আর প্রস্তুত হওয়ার আগে সাতটি ধাপ পার করতে হয়। বিশতের হাত ও সামনের অংশে সোনালি পাড় দিতে ভিন্ন ভিন্ন কর্মীর দরকার হয়। মেসির বিশতের জন্য সোনালি সুতা এসেছে জার্মানি থেকে। আর নাজামি কাপড় জাপান থেকে আমদানি করা হয়েছে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)

Tag Terpopuler

To Top